মাইক্রোসফটের ২০২৬ সালের প্রথম উইন্ডোজ ১১ সিকিউরিটি আপডেট অনেক ব্যবহারকারীর জন্য নতুন জটিলতার সৃষ্টি করেছে। আপডেট ইনস্টল করার পর একাধিক কম্পিউটারে স্বাভাবিকভাবে শাটডাউন হচ্ছে না, আবার কোথাও হাইবারনেশন মোড কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের জন্য মাইক্রোসফটকে জরুরি ভিত্তিতে আরেকটি আপডেট প্রকাশ করতে হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির পরিভাষায় এ ধরনের পরিস্থিতিকে বলা হয় প্যাচ আফটার দ্য প্যাচ। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে দেওয়া আপডেট থেকেই আবার নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া এবং তা ঠিক করতে পুনরায় আলাদা প্যাচ দিতে হওয়া। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেটিরই প্রতিফলন দেখা গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুদিন আগে প্রকাশিত উইন্ডোজ ১১-এর সিকিউরিটি আপডেটের পর ২৩এইচ২ সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটারে এই সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে এন্টারপ্রাইজ ও আইওটি সংস্করণে, যেখানে সিকিউরিটি ফিচার সক্রিয় ছিল, সেখানে শাটডাউন ও হাইবারনেশন মোড ঠিকমতো কাজ করছিল না।
এখানেই সমস্যার শেষ নয়। একই আপডেটের প্রভাবে রিমোট ডেস্কটপ সংযোগ ও লগইন অথেন্টিকেশন ব্যবস্থাতেও ত্রুটি দেখা দেয়। এর প্রভাব শুধু উইন্ডোজ ১১-তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; উইন্ডোজ ১০ এবং সার্ভার-২০২৫সহ একাধিক সংস্করণেও এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ বার্তাকেন্দ্রে এই সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সেখানে জানানো হয়, জানুয়ারিতে প্রকাশিত আপডেটের পর এসব ত্রুটি শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আউট অব ব্যান্ড আপডেট প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণ প্যাচের বাইরে তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে শাটডাউন সমস্যার সমাধানে কেবি সিরিজের একটি প্যাচ প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট, যা আপডেট ক্যাটালগ থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে এবং পরবর্তী নিয়মিত আপডেটেও যুক্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, জানুয়ারির আপডেটের পর যেসব ব্যবহারকারী শাটডাউন কিংবা রিমোট ডেস্কটপ সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাদের দ্রুত কেবি সিরিজের সর্বশেষ আপডেট ইনস্টল করা উচিত। এতে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


