ঘুমের সময় মানুষ কখনো অস্পষ্ট বিড়বিড়ানি, কখনো আবার জোরে কথা বলা বা চিৎকারের মতো আচরণ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কথার কোনো স্পষ্ট অর্থ থাকে না। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের ঘুমের যেকোনো পর্যায়েই এই আচরণ দেখা যেতে পারে, তবে স্বপ্নহীন হালকা ঘুমের সময় এমন ঘটনা বেশি ঘটে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুমের মধ্যে কথা বলার পেছনে মস্তিষ্কের আংশিক জেগে ওঠা ভূমিকা রাখে। যখন শরীর বিশ্রামে থাকে, তখন ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের কিছু অংশ হঠাৎ সক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় কথা বলে ফেলেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ জীবনে অন্তত একবার হলেও ঘুমের মধ্যে কথা বলেছেন। নিয়মিত এ অভ্যাস রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা ৩ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও তা থেকে যায়।
মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘুমের ঘোরে বলা কথায় নেতিবাচক আবেগ, প্রশ্নবোধক বাক্য এবং গালিগালাজের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকে। এক গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ জেগে থাকার সময়ের তুলনায় ঘুমের মধ্যে প্রায় ছয় গুণ বেশি গালি দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের মধ্যে বলা কথা মানুষের মনের গোপন সত্য প্রকাশ করে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কথা এলোমেলো ও অর্থহীন হয় এবং বাস্তব চিন্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকে না।
সিএ/এমআর


