রাজধানীর দক্ষিণখানে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল-আরাবিয়া’, যেখানে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কুরআন, ইসলামী শিক্ষা এবং সাধারণ পাঠদান করা হচ্ছে বিশেষ পদ্ধতিতে।
এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা নয়, যোগাযোগের মাধ্যম হলো ইশারা। হাতের ভঙ্গি ও চোখের ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আয়াত, হরফ ও তাজবিদ শিখছে। শব্দহীন এই পরিবেশেও শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও অনুরাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই উদ্যোগ শুধু শিক্ষাদান নয়, সমাজের অবহেলিত একটি অংশকে মূলধারায় যুক্ত করার প্রয়াস হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও এখানে কওমি সিলেবাসের প্রথম শ্রেণি থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা জানান, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার একটি মাদ্রাসার ভিডিও দেখে তারা এ উদ্যোগ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পান। পরবর্তীতে সৌদি আরবের তায়েফে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং ইন্দোনেশিয়ায় অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তারা এই শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেন। বর্তমানে সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিকুলাম অনুসরণ করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে বধির শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ বিরল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির মতোই বধিরদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে ধর্মীয় শিক্ষা চালু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও তাদের জন্য পৃথক আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে তাদের মানসিক বিকাশ আরও উন্নত হয়।
সিএ/এমআর


