ইসলামের দৃষ্টিতে নেক সন্তান আল্লাহ তায়ালার দেওয়া অন্যতম বড় নেয়ামত। নেক সন্তানের মাধ্যমে মা-বাবা দুনিয়াতে যেমন শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করেন, তেমনি পরকালেও তাদের কবরের জীবন সুন্দর হয়। হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মানুষের মৃত্যুর পর তার আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল কখনো বন্ধ হয় না—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।
মৃত্যুর পরবর্তী জীবন কঠিন হলেও কিছু আমলের ধারাবাহিকতা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। পৃথিবীর ধন-সম্পদ বা ক্ষমতা কবরের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কিন্তু নেক সন্তান নিয়মিত দোয়া করলে তা মা-বাবার জন্য পরকালের পাথেয় হয়ে ওঠে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সন্তানদের তাদের বাবা-মার জন্য দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। বাবা-মা জীবিত বা মৃত্যুবরণ করেছেন—যে অবস্থাই হোক না কেন, সন্তানের দায়িত্ব হলো এই দোয়াগুলো পাঠ করা। এর মধ্যে রয়েছে, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা। অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।
আরও রয়েছে, রাব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও জ্বালিমিনা ইল্লা তাবারা এবং রাব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলুমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব। এই দোয়াগুলো সন্তান, বাবা-মা এবং সকল মুমিনের জন্য কল্যাণকর।
ইসলামী ইতিহাসে হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়ার ঘটনাও নেক সন্তান চাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বার্ধক্যে উপনীত হয়েও তিনি আল্লাহর কাছে নেক সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা সেই দোয়া কবুল করেছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, নেক সন্তান শুধু দুনিয়ার সম্পদ নয়, বরং পরকালের জন্যও এক অমূল্য আমানত।
সিএ/এমআর


