মদিনার উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মসজিদ আল ফাশ ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, উহুদ যুদ্ধের সংকটময় সময়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা এখানে আশ্রয় নিয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন। এই ঘটনাই স্থানটিকে মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব প্রদান করেছে।
উহুদ পাহাড়ের নিচে শিব আল জাররার নামে একটি পাহাড়ি গিরিপথের প্রবেশমুখে মসজিদ আল ফাশ অবস্থিত। ইতিহাসে এটি উহুদ মসজিদ নামেও পরিচিত ছিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনাবলির নীরব সাক্ষী হিসেবে আজও এই স্থানটি উহুদ যুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, উহুদ যুদ্ধে এক কঠিন মুহূর্তে নবীজি (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা নিরাপত্তার জন্য এই স্থানে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাঁরা নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। এই কারণেই জায়গাটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মসজিদ আল ফাশ নামকরণের পেছনেও উহুদ যুদ্ধসংক্রান্ত স্মৃতি জড়িয়ে আছে বলে জানা যায়। পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ তখন ছিল নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। সেই সময় নবীজি (সা.) ও সাহাবিরা সাময়িকভাবে এখানে অবস্থান করেছিলেন।
বর্তমানে মদিনায় আগত মুসলমান দর্শনার্থী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য মসজিদ আল ফাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। উহুদ যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করা, ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আত্মশুদ্ধির অনুভূতি অর্জনের জন্য অনেকেই এখানে আসেন।
মসজিদ আল ফাশ শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে আজও মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
সিএ/এমআর


