নারীদের মেনোপজ নিয়ে সচেতনতা তুলনামূলক বেশি থাকলেও পুরুষদের বয়সজনিত হরমোনগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অনেক কম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ পরিবর্তনকে বলা হয় অ্যান্ড্রোপজ, যা মূলত শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৪০ বছরের পর থেকে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুব সামান্য হলেও অনেকের দৈনন্দিন জীবন, মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অ্যান্ড্রোপজের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, কর্মোদ্যম কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন এবং আত্মবিশ্বাস হ্রাস। পাশাপাশি যৌন আগ্রহ ও সক্ষমতা কমে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, পেশিশক্তি হ্রাস এবং হাড়ের দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।
শুধু শারীরিক পরিবর্তনই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। অনেক পুরুষ উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা মানসিক অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই এসব বিষয় প্রকাশ করতে চান না।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্ড্রোপজ কোনো রোগ নয়; এটি বয়সজনিত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো কারণগুলো এ অবস্থাকে আরও তীব্র করতে পারে।
এ ধরনের পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। হাঁটা, সাঁতার কিংবা হালকা ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপি প্রয়োগ করা হলেও তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হতে হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা পুরুষদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


