ব্যস্ত জীবনযাপনে সপ্তাহজুড়ে ঘুমের ঘাটতি পূরণে ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমানো অনেকের অভ্যাস। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে ভিন্ন একটি ধারণা—আগাম বাড়তি ঘুম জমা রাখা বা ‘স্লিপ ব্যাংকিং’।
এই ধারণা অনুযায়ী, কয়েক রাত ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘুমালে শরীর ও মস্তিষ্ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ও সক্ষমতা সঞ্চয় করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে ঘুমের ঘাটতি হলেও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ভ্রমণ বা রাতজাগা কাজের আগে অনেকেই অতিরিক্ত ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
২০০৯ সালে চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, টানা কয়েক রাত অতিরিক্ত ঘুম পরবর্তী নাইট শিফটে তাদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়েছে। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ক্রীড়াবিদ অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া সময় কমানো এবং পারফরম্যান্স উন্নত করতে পেরেছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, এসব গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ঘুম ‘সংরক্ষণ’ করা সম্ভব। বরং এটি আগের ঘুমের ঘাটতি পূরণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘুম শরীরের বিপাক, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। দিনের বেলায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ ও শক্তি পুনরুদ্ধারের কাজও ঘুমের সময় সম্পন্ন হয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, চিন্তাশক্তি দুর্বল করে এবং শেখার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামনে ঘুমের ঘাটতির সম্ভাবনা থাকলে এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে প্রতিদিন কিছুটা বেশি ঘুমানো যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম সব সময় সম্ভব নয় এবং সবার ক্ষেত্রে সমান কার্যকরও নাও হতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞ ঘুমকে ‘পিগি ব্যাংক’ নয়, বরং ‘ক্রেডিট কার্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ ঘুমের ঘাটতি জমতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম আগাম সঞ্চয় হিসেবে কাজ করে—এমন প্রমাণ এখনো সুস্পষ্ট নয়।
সিএ/এমআর


