কিডনির রোগ অনেক সময় শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন কিডনিকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে এ বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ডিসান হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট ডা. অর্কপ্রভ চক্রবর্তী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির অসুখ এখন আর বিরল কোনো রোগ নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন কোনো না কোনো ধরনের কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে যান তখন, যখন রোগটি অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তখন অনেক ক্ষেত্রে ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প থাকে না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এই চিকিৎসা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তাই কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, সামান্য কাজ করলেই শ্বাসকষ্ট এবং সারা শরীরে চুলকানি। এই ধরনের লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
কিডনির সমস্যা শনাক্ত করতে সাধারণ কিছু পরীক্ষাই যথেষ্ট। এর মধ্যে রয়েছে রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, রুটিন ইউরিন টেস্ট, অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন রেশিও পরীক্ষা এবং কিডনির আল্ট্রাসোনোগ্রাফি। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক সময় উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই কিডনির গঠন ও কার্যকারিতার সমস্যা ধরা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির অসুখের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। এই দুটি রোগ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা করা, সক্রিয় জীবনযাপন করা, ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং দিনে পাঁচ গ্রামের বেশি নুন না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই নিজের ইচ্ছায় ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ বা ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করেন। বিশেষ করে এনএসএআইডি গ্রুপের ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জলপানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপ, খাবারে নুনের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার ওপর। তবে শরীর যেন কখনো ডিহাইড্রেট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর যাদের কিডনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলপান সীমিত করতে হয়।
পা ফুলে যাওয়া অনেক সময় কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করা, নুন কম খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া নিয়মিত ওজন মাপাও গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে গেলে শরীরে পানি জমার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
সিএ/এমআর


