রোজার মাসে সারাদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সাহরির খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর ও তৃপ্তিদায়ক খাবার সাহরিতে গ্রহণ করলে দিনের দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাবার নির্বাচন করলে রোজা রাখা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে এবং এটি শরীরকে বিষাক্ত উপাদানমুক্ত করতেও সহায়তা করে।
সাহরি সাধারণত সূর্যোদয়ের আগে খাওয়া হয়। তাই এই সময় এমন খাবার বেছে নেওয়া দরকার যা সারাদিন শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। অনেক সময় মানুষ অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন, যা পরে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সাহরিতে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি সাহরির জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এই ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেয়। একই সঙ্গে এগুলো শরীরের সহনশীলতা বাড়ায় এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কলা, পালং শাক, ব্রকলি, ক্যান্টালুপ, মটরশুঁটি ও মাশরুম এ ধরনের খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সাহরির তালিকায় রাখা উচিত। প্রোটিন শরীরে সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সহায়ক। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, মুরগির মাংস, পনির, বাদাম, বাদাম-মাখন এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল সাহরির জন্য ভালো উৎস হতে পারে।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারও সাহরিতে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর অনেকেই উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ফাইবারসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করলে হজমপ্রক্রিয়া সুস্থ থাকে এবং শরীর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে। খাদ্যতালিকায় পীচ, আপেল, ব্রকলি, কিডনি বিন, ছোলা, কুইনোয়া ও ওটসের মতো খাবার রাখা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


