দ্রুতগতির ব্যস্ত জীবনে অনেকেই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় খুঁজছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি কার্যকর ও সহজ উপায় হলো বাগান করা। এটি শুধু একটি শখ নয়, বরং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্যও উপকারী একটি অভ্যাস।
গবেষকদের মতে, বাগান করা মানুষকে ধীর হতে, প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে এবং বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। ফুলের গাছের যত্ন নেওয়া, শাকসবজি চাষ করা কিংবা ঘরের ভেতরের গাছপালার পরিচর্যা—এসব কাজ মনকে শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাগান করার অভ্যাস মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে সময় কাটানো এবং প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে এবং শরীরে চাপের হরমোনের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
বাগানের বিভিন্ন কাজ যেমন গাছে পানি দেওয়া, বীজ রোপণ করা বা গাছের পাতা ছাঁটাই করার মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ মানুষের মনোযোগকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়। এতে উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয় এবং মানসিক ভারসাম্য বাড়ে।
বাগান করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো এটি মানুষের মেজাজ উন্নত করতে সহায়তা করে। বাইরে বাগান করার সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া গাছপালার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার অভিজ্ঞতাও অনেকের কাছে আনন্দদায়ক। গাছের যত্ন নেওয়া এবং ধীরে ধীরে তার বেড়ে ওঠা দেখা মানুষের মনে সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে।
বাগান করা মননশীলতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। গাছ লাগানো, আগাছা পরিষ্কার করা বা বাগান সাজানোর মতো কাজে মনোযোগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, যা চিন্তাভাবনাকে শান্ত করতে সহায়তা করে।
এছাড়া এটি একটি শারীরিক কার্যকলাপও। মাটি খোঁড়া, গাছে পানি দেওয়া কিংবা পাত্র সরানোর মতো কাজ শরীরে এন্ডোরফিন নামের প্রাকৃতিক হরমোন তৈরি করতে সহায়তা করে, যা মানুষের মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত বাগান করা শক্তির মাত্রা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ বা খিটখিটে মেজাজ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সিএ/এমআর


