রান্নাঘরের আধুনিক যন্ত্রপাতির তালিকায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এয়ার ফ্রায়ার। অনেকেই এটিকে ডিপ ফ্রাইয়ের তুলনায় স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ এতে খুব অল্প তেল ব্যবহার করেই খাবারের বাইরের স্তর মুচমুচে করা সম্ভব। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা খাবার সত্যিই স্বাস্থ্যকর কি না, নাকি কেবল স্বাদ ও টেক্সচারেই এটি আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলে রান্নায় তেলের পরিমাণ কমে যায়, যা ক্যালোরি ও চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর হবে তা মূলত নির্ভর করে সেই খাবারের উপাদান ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর।
এয়ার ফ্রায়ার মূলত গরম বাতাস দ্রুত সঞ্চালনের মাধ্যমে খাবার রান্না করে। এই প্রক্রিয়ায় খাবারের বাইরের অংশ ভাজা খাবারের মতো খসখসে হয়ে ওঠে। ঐতিহ্যগত ডিপ ফ্রাই পদ্ধতির তুলনায় এতে অনেক কম তেল লাগে। ফলে শাকসবজি, আলু কিংবা বিভিন্ন প্রোটিনজাত খাবার তুলনামূলক কম চর্বি ব্যবহার করে রান্না করা সম্ভব হয়।
এয়ার ফ্রায়ারকে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখার প্রধান কারণ হলো এতে তেলের ব্যবহার কমানো যায়। এতে খাবারের মোট চর্বি ও ক্যালোরির পরিমাণও কমে যেতে পারে। যারা ভাজা খাবার পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি ডিপ ফ্রাইয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম তেল ব্যবহার করে একই ধরনের স্বাদ ও টেক্সচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
তবে সব ক্ষেত্রেই এয়ার ফ্রায়ার খাবারকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমায়িত ফ্রাই, নাগেটস বা প্যাকেটজাত অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলেও সেগুলোতে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকতে পারে। ফলে রান্নার পদ্ধতি পরিবর্তন হলেও এসব খাবার পুষ্টিগুণের দিক থেকে খুব একটা পরিবর্তিত হয় না।
তাই ডিপ ফ্রাইয়ের তুলনায় এয়ার ফ্রায়ার কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে তেলের ব্যবহার কম। তবে এটি অস্বাস্থ্যকর খাবারকে পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর করে তোলে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


