রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার অনেকের জন্য বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। ইফতার শেষ হতেই অনেকের মনে এক কাপ চা খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। কারও পছন্দ দুধ-চা, কেউ আবার লাল-চা বা মসলা-চা পান করতে ভালোবাসেন। অনেকের কাছে ইফতারের পর এক কাপ চা যেন সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার অন্যতম উপায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে চা পান করা সব সময় শরীরের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। সঠিক সময় ও পরিমাণ না মানলে প্রিয় সেই চা-ই হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি কিংবা পানিশূন্যতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা আকতার এক জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে জানান, ইফতারের পর চা খাওয়া যেতে পারে, তবে সময়, ধরন ও পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
তার মতে, ইফতারের পর অনেকেই বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না। এমন পরিস্থিতিতে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে চা সহায়ক হতে পারে। চায়ের ক্যাফেইন ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। আদা, তেজপাতা, দারুচিনি কিংবা লবঙ্গ দিয়ে তৈরি মসলা চা শরীরকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনো খাবার খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর পানি বা পানীয় গ্রহণ করা উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। আর পানীয়টি যদি চা হয়, তাহলে সময়ের ব্যবধান আরও কিছুটা বাড়ানো ভালো।
কারণ, চায়ের ট্যানিন শরীরের আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর চা পান করা তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইফতারের পর অনেকেই দুধ-চা পান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ভাজাপোড়া খাবারের পর দুধ-চা খেলে অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ইফতারের পর হালকা চা পান করা ভালো।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চা পান করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বেশি চা পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। রমজান মাসে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে তাই পরিমিত চা পান করাই উত্তম।
সিএ/এমআর


