অনেক সময় চারপাশে মানুষ কথা বললেও সব শব্দ পরিষ্কারভাবে শোনা যায় না। ভিড়ের মধ্যে বন্ধুর কথা বুঝতে অসুবিধা হয় বা ফোনে কারও কণ্ঠস্বর যেন দূর থেকে ভেসে আসে বলে মনে হয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতিকে সাময়িক সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কম শোনার লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রতি বছর ৩ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব শ্রবণ দিবস। এই দিবসের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে কানের যত্ন ও শ্রবণশক্তি রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো। অনেকের ধারণা, কানে কম শোনা শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত শব্দদূষণ, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবেও ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কানে কম শোনার লক্ষণগুলো প্রথম দিকে খুব সূক্ষ্মভাবে দেখা দেয়। ফলে অনেকেই তা সহজে বুঝতে পারেন না। অথচ কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
প্রথম লক্ষণ হিসেবে অনেকেই শব্দকে অস্পষ্ট বা ঝাপসা মনে করেন। মনে হয় যেন ঘষা কাঁচের আড়াল থেকে কেউ কথা বলছে। আবার ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কারও কথা আলাদা করে বুঝতে অসুবিধা হওয়াও কানে কম শোনার একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
কথা বলার সময় বারবার অন্যকে কথা পুনরাবৃত্তি করতে বলা বা ‘কী বললেন’ ধরনের প্রশ্ন করা, টিভি দেখার সময় অন্যদের তুলনায় বেশি ভলিউমের প্রয়োজন হওয়া—এসব লক্ষণও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবেশ থেকেও মানুষ দূরে সরে যেতে শুরু করেন। কারণ তারা আড্ডা বা পারিবারিক আলোচনায় অন্যদের কথা ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। আবার অনেকের কানে একটানা ভোঁ ভোঁ শব্দ, বাঁশির মতো আওয়াজ বা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকার মতো শব্দ শোনা যায়, যাকে টিনিটাস বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ‘স’, ‘ফ’ বা ‘ট’ ধরনের ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে সমস্যা হওয়া, সারাদিন অন্যের কথা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে মানসিক ক্লান্তি অনুভব করা কিংবা আশপাশের মানুষ ঠিকমতো কথা বলছে না বলে মনে হওয়াও শ্রবণ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এছাড়া পাখির ডাক, ঘড়ির টিকটিক শব্দ বা পরিবেশের হালকা শব্দ দীর্ঘদিন ধরে কানে না আসা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করলে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


