স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ উঠলেই অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে ড্রাই ফ্রুটস। বাদাম, কিশমিশ, খেজুরসহ বিভিন্ন শুকনো ফলকে অনেকেই পুষ্টিকর নাস্তা হিসেবে নিয়মিত খেয়ে থাকেন। তবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন পুষ্টিবিদরা।
ড্রাই ফ্রুটস মূলত শুকিয়ে সংরক্ষণ করা ফল, যেখানে পানির পরিমাণ কমে গেলেও পুষ্টিগুণ অনেকাংশে অটুট থাকে। বাদামে থাকে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও বিভিন্ন মিনারেল। কিশমিশ ও খেজুর দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। সহজে সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় এগুলো দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং দিনের মাঝামাঝি ক্ষুধা মেটাতেও কার্যকর।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ড্রাই ফ্রুটসে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করে বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হতে পারে। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদাম, খেজুর ও কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ও ফ্যাট থাকায় অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরে মেদের পরিমাণ বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ড্রাই ফ্রুটস কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা থাকে, যা ক্যালরির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
অনেকেই ড্রাই ফ্রুটের সঙ্গে মধু, সিরাপ বা বিভিন্ন মিষ্টান্ন মিশিয়ে খান। এতে একসঙ্গে অনেক বেশি ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পুষ্টিবিদরা আরও জানান, বাদামে সাধারণত ভালো ফ্যাট থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরে ফ্যাটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে ড্রাই ফ্রুটস পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাজা ফলের মতো বড় পরিমাণে এগুলো খাওয়া উচিত নয়। সাধারণভাবে এক চামচ বা ছোট এক মুঠো ড্রাই ফ্রুটসই যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ড্রাই ফ্রুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতনভাবে পরিমাণ ঠিক রেখে খেলে ড্রাই ফ্রুটস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে, আর অতিরিক্ত খেলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সিএ/এমআর


