দীর্ঘদিন ধরে হজমজনিত সমস্যার সমাধানে ইসবগুল একটি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত উপাদান। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা থেকে শুরু করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এই ফাইবার সম্পূরকটি প্রায় প্রতিটি ঘরেই ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক গঠন ও মৃদু কার্যকারিতার কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েছে।
তবে ইসবগুলের ব্যাপক ব্যবহারের পাশাপাশি এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণাও প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক সময় বাস্তব তথ্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভুল বিশ্বাসের কারণে অনেকেই ইসবগুল ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন।
অনেকে মনে করেন, ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়। বাস্তবে ইসবগুল বা সাইলিয়াম হাস্ক সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান। এটি প্লান্টাগো ওভাটা উদ্ভিদের বীজের বাইরের খোসা থেকে পাওয়া যায় এবং এতে কেবল দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এতে কোনো কৃত্রিম উপাদান নেই এবং এটি হজমের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর।
আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, ইসবগুল নিয়মিত খেলে এর ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসবগুল উদ্দীপক রেচক নয়। এটি পানি শোষণ করে জেল তৈরি করে এবং মলের ভর বাড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ সহজ করে। ফলে এতে অভ্যাস গঠনের ঝুঁকি নেই।
ইসবগুল খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা বাড়ে বলেও অনেকের ধারণা রয়েছে। যেকোনো ধরনের ফাইবার হঠাৎ করে বেশি গ্রহণ করলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে ফাইবার গ্রহণ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে সাধারণত এই সমস্যা থাকে না।
প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকর—এই ধারণাটিও সঠিক নয়। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবারের অভাব থাকলে নিয়মিত ইসবগুল গ্রহণ নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শুষ্ক অবস্থায় গ্রহণ না করে সব সময় পানির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


