যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও প্রতিযোগিতার দৌড়ে আধুনিক মানুষের মন আজ ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত। মানসিক চাপ বা স্ট্রেস যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় ও সুযোগ অনেকের কাছেই সীমিত। তবে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে ইবাদত শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক শুদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
ইতিহাসজুড়ে নবী-রাসুলেরা উম্মতকে ইবাদতের মাধ্যমে মানসিক ও আত্মিক শান্তির পথে পরিচালিত করেছেন। একাগ্রচিত্তে ইবাদতে মনোনিবেশ করলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হয় এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে আসে। স্রষ্টার সামনে নিজের উদ্বেগ ও অসহায়ত্ব তুলে ধরলে মনের ভেতরে জমে থাকা ভার অনেকটাই হালকা হয়ে যায়।
পবিত্র মাহে রমজানে ইবাদতের এই গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়। কাজের চাপ, ডেডলাইন ও মাল্টিটাস্কিংয়ের ফলে যে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে রমজান হতে পারে একটি নতুন সূচনা। নিয়মিত নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে সময়ানুবর্তী করে তোলে এবং জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।
রমজানে মানসিক প্রশান্তি ধরে রাখতে দিনের কাজের পূর্বপরিকল্পনা করা জরুরি। সাহ্রির পর শক্তি বেশি থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকালে সম্পন্ন করা যেতে পারে। যাতায়াতের সময় সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবর্তে জিকির বা কোরআন তিলাওয়াত শোনা মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। পাশাপাশি কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইবাদত অন্তরের স্থিরতা ফিরিয়ে আনে।
রাতে ঘুম কম হলে দুপুরে অল্প সময়ের বিশ্রাম বা কাইলুলা শরীর ও মন সতেজ রাখতে সহায়ক। ইবাদতকে দৈনন্দিন কাজের তালিকার অংশ হিসেবে নয়, বরং দিনের সবচেয়ে প্রশান্তিময় সময় হিসেবে গ্রহণ করলেই রমজান হতে পারে মানসিক চাপ মোকাবিলার শক্তিশালী মাধ্যম।
সিএ/এমআর


