রমজান মাসে গর্ভবতী নারীরা রোজা রাখা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। ধর্মীয়ভাবে ছাড় থাকলেও অনেক নারী শারীরিকভাবে সক্ষম হলে রোজা রাখতে চান। তবে চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া রোজা রাখলে মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
গর্ভাবস্থায় শরীরের পুষ্টির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে এবং পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যানিমিয়া, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কম ওজন বা উচ্চ ঝুঁকির গর্ভাবস্থা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোজার আগে শরীরকে প্রস্তুত করার জন্য ধীরে ধীরে খাবারের সময়সূচি পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, যাতে ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায়। সেহরিতে জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফলমূল রাখলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
রোজার সময় পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। রোজা রাখার সময় মাথা ঘোরা, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, তীব্র দুর্বলতা, প্রস্রাব কম হওয়া বা গাঢ় রঙের হওয়া এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, মায়ের সুস্থতাই শিশুর সুস্থ বিকাশের ভিত্তি। তাই শরীরের সংকেত উপেক্ষা না করে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


