সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার শেষে অনেকেই হঠাৎ ক্লান্তি অনুভব করেন। পেটভর্তি খাবার খাওয়ার পর শক্তি ফিরে আসার বদলে শরীর অবসন্ন হয়ে পড়া রমজানে খুবই পরিচিত একটি সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অনেক খাবার খেলে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়ে যায়। তখন শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে চলে যায়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
এ ছাড়া পানিশূন্যতাও ইফতারের পর ক্লান্তির অন্যতম কারণ। সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার না নিলে এই ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাদার ও মিষ্টিজাতীয় খাবারও শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এসব খাবার হজমে বেশি সময় লাগে এবং শরীরকে অবসন্ন করে তোলে।
ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে বিশেষজ্ঞরা ধীরে ও পরিমিতভাবে খাওয়ার পরামর্শ দেন। ইফতার শুরু করা উচিত একটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করলে হজম সহজ হয়।
ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফল, ফলের রস, শরবত বা ডাবের পানি পান করলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়।
ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, ফল, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে ক্লান্তি কম হয়। ইফতারের কিছু সময় পর এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো।
ইফতারের পরপরই শুয়ে না পড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয়। ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করাও শরীরের জন্য উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া ইফতারের পরের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
সিএ/এমআর


