রোজার সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও নানাভাবে প্রভাব পড়ে। না শীত, না গরম—এমন গোলমেলে আবহাওয়ায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা হয়, তাহলে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই পুরো রমজানজুড়ে সুস্থ থাকতে সঠিক ও পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারিতে ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোজার মাসে ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়লেও এসব খাবার নিয়মিত খেলে পানিশূন্যতা, বুকজ্বালা, হজমের সমস্যা, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনেক ভাজাপোড়া খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, কৃত্রিম রং ও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়ে।
ইফতারে সহজপাচ্য ও কম তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। একটি খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করে ধীরে ধীরে বিশুদ্ধ পানি পান করা ভালো। ডাবের পানি, লেবুপানি কিংবা মৌসুমি ফলের রসের সঙ্গে তোকমাদানা, চিয়া সিড বা ইসবগুলের ভুসি যোগ করা যেতে পারে। ভাজাভুজির বদলে অঙ্কুরিত ছোলা, শসা, টমেটো, লেবু ও কাঁচা রসুন দিয়ে সালাদ স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
রাতে খাবার না খেয়ে সরাসরি সাহ্রিতে যাওয়ার অভ্যাস ঠিক নয়। রাতের খাবারে লাল আটার রুটি বা ভাত, ডাল, শাকসবজি এবং মাছ, মাংস বা ডিম রাখা উচিত। হালকা স্যুপ, দুধ ও টক দই হজমে সহায়ক। সাহ্রিতে দীর্ঘ সময় পেটে থাকে এমন খাবার খেতে হবে, তবে অতিরিক্ত নয়। লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি, ডাল, সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস দুধ রাখলে সারাদিন শক্তি বজায় থাকে।
সিএ/এমআর


