আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খেজুরের গুরুত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে। রোজা রেখে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত হওয়ায় রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। খেজুর ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায় বলেই মনে করেন অনেকেই।
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি সুপারফুড। কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালের মুখ্য পুষ্টিবিদ সুদেষ্ণা মৈত্র নাগ জানান, খেজুর সারা বছরই খাওয়া উচিত। বিশেষ করে রমজানে সারাদিন উপবাস থাকার পর ইফতারে খেজুর খেলে দ্রুত ক্যালোরি, শক্তি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।
খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। ফলে এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদ সুদেষ্ণা মৈত্র নাগ বলেন, খেজুরে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোজা রাখার পর ইফতারে খেজুর খেলে গ্যাস ও অম্বল কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলেও জানান তিনি। খেজুর হজমশক্তি বাড়ায়, যকৃৎ ও পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
খেজুর খেলে স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, দুর্বলতা দূর হয় এবং ত্বক ভালো থাকে। চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো, ফুসফুস সুরক্ষা, এমনকি গর্ভবতী নারীদের প্রসব প্রক্রিয়া সহজ করতেও খেজুরের উপকারিতার কথা উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।
হাদিসে খেজুরের বিশেষ গুরুত্বের কথাও এসেছে। সহিহ বোখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না।’


