স্নেইল ফিভার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সিস্টোসোমিয়াসিস নামে পরিচিত। এটি ম্যালেরিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরজীবীঘটিত রোগ। সাধারণত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হন।
এই রোগটি একধরনের পরজীবী কৃমি সিস্টোসোমা দ্বারা সৃষ্ট। কৃমির জীবনচক্রের একটি ধাপ কাটে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মিষ্টি পানির শামুকের শরীরে। সেখান থেকে লার্ভা পানিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ যখন সেই দূষিত পানিতে গোসল বা কাজ করেন, তখন ত্বকের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে।
সংক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যেই ত্বকে চুলকানি বা লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে এক থেকে দুই মাস পর তীব্র জ্বর, কাঁপুনি, কাশি, পেশিতে ব্যথা, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণে লিভার ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে ও রক্তশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নেইল ফিভার থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। দূষিত মিষ্টি পানিতে গোসল বা কাজ করা এড়িয়ে চলা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাজিকুয়ান্টেল নামের ওষুধটি অত্যন্ত কার্যকর। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো চিকিৎসা নিলে শরীর থেকে পরজীবী সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


