হাঁটুর ব্যথা বর্তমানে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জন্মগতভাবে হাড়ের গঠনে ত্রুটি, সংক্রমণ, আর্থ্রাইটিস, কার্টিলেজে আঘাত কিংবা দুর্ঘটনার কারণে হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাঁটুর বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অস্ত্রোপচার ছাড়াও হাঁটুর ব্যথা কমানোর একটি পদ্ধতি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি।
পিআরপি থেরাপিতে মানবদেহের নিজস্ব রক্ত ব্যবহার করা হয়। রক্তের তিনটি প্রধান উপাদান হলো লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাজমা। এই প্লাজমার মধ্যেই থাকে প্লাটিলেট, যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত ও নতুন কোষ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় রোগীর রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করে ব্যথার স্থানে প্রয়োগ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিরাময় দ্রুত হতে পারে।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাঁটুর ব্যথা ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে পিআরপি থেরাপি কার্যকর হতে পারে। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ সুব্রত গড়াই জানান, প্রথমে রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে সেই রক্ত ঘুরিয়ে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়। সেখান থেকে প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা সংগ্রহ করে ইনজেকশনের মাধ্যমে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত দুই সপ্তাহ অন্তর তিন ধাপে এই থেরাপি দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক বা মাঝারি মাত্রার অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী। দুর্ঘটনায় হাঁটুতে আঘাত, লিগামেন্ট ক্ষতি কিংবা কম বয়সে হাঁটুর সমস্যায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শে পিআরপি থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো রোগীর নিজের রক্ত ব্যবহৃত হওয়ায় অ্যালার্জি বা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম। তবে শেষ পর্যায়ের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে, যেখানে হাঁটুর হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত, সেখানে এই থেরাপি কার্যকর নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাঁটু প্রতিস্থাপনই একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।
সিএ/এমআর


