মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু কৃমির উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে অতিরিক্ত কৃমির সংক্রমণ হলে তা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের মানুষই এ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।
বিশেষ করে থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্মের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি।
কৃমির সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। খাবার ও পানি গ্রহণের আগে হাত ধোয়া, সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার করা, অপরিষ্কার জলাশয়ে গোসল এড়িয়ে চলা এবং পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শের পর হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ সেবনও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কৃমি বাসা বাঁধলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অস্বাভাবিক ক্ষুধা বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া। কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
এ ছাড়া কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া এবং সার্বক্ষণিক ক্লান্তি অনুভূত হওয়া কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। মলের সঙ্গে সাদা ছোট কৃমি দেখা যাওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বারবার পেটব্যথা, খিঁচুনি বা মোচড়ের মতো ব্যথা হওয়াও কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা ও পায়ুপথে চুলকানি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


