দীর্ঘ সময় না খেলে অনেকেরই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এই অবস্থাকে অনেকে ‘হ্যাংরি’ বলে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ক্ষুধা ও রাগের সম্পর্ক কেবল রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার কারণে নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত মস্তিষ্ক ও আবেগের জটিল প্রক্রিয়া।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর ব্যবহার করে এক মাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের মেজাজ ও ক্ষুধার অনুভূতি নথিভুক্ত করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শুধু রক্তে শর্করা কম থাকলেই সবাই বিরক্ত হয় না। যারা নিজের ক্ষুধা সচেতনভাবে টের পায়, তাদের মধ্যেই বিরক্তি বেশি দেখা যায়। এই মানসিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইন্টারোসেপশন।
মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ক্ষুধার সংকেত গ্রহণ করে এবং ইনসুলা অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যাদের ইন্টারোসেপশন ভালো, তারা ক্ষুধার্ত হলেও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন শরীরের সংকেত উপেক্ষা করলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার খাওয়া, শরীরের সংকেত বোঝার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে ক্ষুধাজনিত রাগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


