খাবার না পেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে—এমন ধারণাই আমাদের মধ্যে বেশি প্রচলিত। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ না করলে শরীর একটি বিশেষ মেরামত প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াটির নাম অটোফ্যাজি। এতে শরীর নিজের ভেতরের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের অংশ ভেঙে নতুন শক্তি ও প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে। সহজভাবে বলা যায়, তখন শরীর নিজেকেই পরিষ্কার করতে শুরু করে।
জাপানি জীববিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওহসুমি গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, যখন শরীর বাইরে থেকে খাবার পায় না, তখন ভেতরের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের অংশ ভেঙে তা পুনর্ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে শরীর বিষাক্ত প্রোটিন, নষ্ট কোষের অংশ এবং অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করতে সক্ষম হয়। গবেষকদের মতে, এই ভেতরের পরিষ্কার ব্যবস্থাই কোষকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়। তখন শরীর প্রদাহ কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং কোষের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অটোফ্যাজির সঙ্গে বার্ধক্য ধীর হওয়া, স্নায়ু সুরক্ষা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে অ্যালঝেইমার ও পারকিনসনের মতো স্নায়ুজনিত রোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন জমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, সেখানে এই প্রক্রিয়া সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এই কারণেই বর্তমানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এবং টাইম রেস্ট্রিকটেড ইটিংয়ের মতো খাদ্যাভ্যাস জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উদ্দেশ্য হলো খাওয়া ও না খাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রেখে শরীরকে নিজেকে মেরামত করার সুযোগ দেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অটোফ্যাজি কোনো অলৌকিক চিকিৎসা নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে উপকার দেয়। সব বয়স ও সব শারীরিক অবস্থার মানুষের জন্য ফাস্টিং সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে।
সিএ/এমআর


