শীতের সময় ঘরের উষ্ণতা ধরে রাখতে রুম হিটার ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। তবে হিটার ব্যবহারের সময় অগ্নিকাণ্ড, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের ক্ষতি বা বিদ্যুৎপৃষ্টির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই নিরাপদ ব্যবহারের কৌশল মেনে চলা জরুরি।
রুম হিটার একটানা দীর্ঘ সময় চালানো উচিত নয়। সাধারণভাবে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি হিটার চালানো নিরাপদ নয়। গভীর রাতে ঘুমানোর সময় হিটার পুরো রাত চালু রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “দুই–তিন ঘণ্টা ব্যবহারের পর অন্তত ত্রিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হিটার বন্ধ রেখে ঘরকে স্বাভাবিক হতে দেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় হিটার চালালে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎজনিত ঝুঁকিও বাড়ে।”
নিরাপত্তার জন্য হিটার বন্ধ রাখা জরুরি। ঘুমানোর সময়, বিশেষ করে গভীর রাতে বা ঘরে কেউ না থাকলে হিটার চালানো উচিত নয়। জানালা-দরজা বন্ধ অবস্থায় দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও হিটার বন্ধ বা বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। শিশু, বয়স্ক বা পোষা প্রাণী থাকলে হিটার চালানো ঝুঁকিপূর্ণ।
হিটার ব্যবহারের সময় নির্দেশনাবলী ভালোভাবে পড়ে ব্যবহার করা উচিত। বৈদ্যুতিক যন্ত্র বিক্রেতা মোরশেদ হোসেন বলেন, “হিটারের তার ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত তার ব্যবহার করা যাবে না। হিটার সমতল ও শক্ত জায়গায় রাখুন। দেয়াল, পর্দা, সোফা বা বিছানা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। মাল্টিপ্লাগ বা অতিরিক্ত লোড নেওয়া এক্সটেনশন ব্যবহার করলে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
হিটার চালানোর সময় ঘরের বাতাস চলাচলও গুরুত্বপূর্ণ। জানালা বা ভেন্টিলেশন আংশিক খোলা রাখলে বাইরে থেকে বাতাস আসে। তাছাড়া ছোট ঘরে শক্তিশালী হিটার ব্যবহার না করাই ভালো। তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “ছোট ঘরে হিটার ব্যবহারে তাপ ও স্থানের ভারসাম্য থাকে না। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হলে কার্বন মনোক্সাইড জমে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।”
ত্বকের সুরক্ষার জন্য হিটার থেকে অন্তত তিন থেকে পাঁচ ফুট দূরে থাকা উচিত। শিশুদের জন্য আরও বেশি দূরত্ব রাখা প্রয়োজন। সরাসরি হিটারের দিকে মুখ করা বা হাত, পা বা মুখ খুব কাছে নেওয়া বিপজ্জনক। অতিরিক্ত তাপে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, পোড়া দাগ বা ফোস্কাও হতে পারে।
হিটার ব্যবহারে ত্বক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্বক টানটান লাগা, লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া শুরু হলে ব্যবহার কমানো উচিত। রূপবিশারদ ফারহানা রুমি বলেন, “ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে ত্বক টানটান ও চুলকানি হয়। গোসলের পর এবং হিটার ব্যবহারের আগে-পরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। ঘরে পানিভর্তি পাত্র রাখলে বাতাসের শুষ্কতা কমে। পর্যাপ্ত পানি পানও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। চোখ ও ঠোঁটের জন্য লিপ বাম ও আই ক্রিম ব্যবহার করুন।”
দুর্ঘটনা এড়াতে হিটারের ওপর কখনও কাপড় শুকানো উচিত নয়। পানি, পর্দা, কাগজ, কম্বল বা অন্যান্য দাহ্য বস্তু হিটারের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “পুরানো বা নষ্ট হিটার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহারের আগে ও পরে হিটার প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ।” শিশু ও বয়স্কদের জন্য ‘লো-হিট সেটিং’ ব্যবহার করা উচিত, সরাসরি গরম বাতাস শরীরে লাগানো ঠিক নয়।
সিএ/এমআর


