ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কিছু খাবার বিপাকের হার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে অন্যতম একটি মসলা হলো দারচিনি। দারচিনি মানবদেহের বিপাকের হার বৃদ্ধি করে, হজম ক্ষমতা ভালো রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে দূষণমুক্ত রাখে, যা পরোক্ষে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর।
প্রতিদিন সকালে দারচিনির পানি পান করলেও যদি কিছু ভুল করা হয়, তবে মাস শেষে কোনো ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই দারচিনি খাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
সঠিক প্রজাতির দারচিনি
বাজারে সাধারণত দুই প্রজাতির দারচিনি পাওয়া যায়—সেলন ও ক্যাসিয়া। সেলন প্রজাতির দারচিনি মানে ভালো এবং কমারিন যৌগ কম থাকে। ক্যাসিয়া দারচিনিতে কমারিনের মাত্রা বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত খেলে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। সেলন দারচিনির স্বাদ মিষ্টি ও রং হালকা বাদামি, আর ক্যাসিয়ার স্বাদ ঝাল ও রং গাঢ়। সেলনের দাম বেশি হলেও এটি স্বাস্থ্যকর।
গোটা দারচিনি ব্যবহার করুন
দারচিনি কেনার সময় সম্ভব হলে গোটা কিনুন। গুঁড়ো ব্যবহারে পুষ্টিগুণ কমে যায়। বাড়িতে গুঁড়ো করার সময়ও ছোট পরিমাণে করা ভালো। দৈনিক মাত্রা ১-২ চা চামচের বেশি না খাওয়া উত্তম। খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে পানি হিসেবে দারচিনি নেওয়া ভালো। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। টানা এক মাস পান করার পর কিছু দিনের বিরতি নেওয়া উচিত। গরমের সময় প্রতিদিন দারচিনি খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি শরীর গরম করে।
সতর্কতা
থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগের ওষুধ খেলে এই পানীয় খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ওষুধের আগে বা পরে কতক্ষণ পার্থক্য রেখে পান করতে হবে, সেটাও জানা জরুরি।
সিএ/এএ


