দেশে তীব্র শীত নেমে এসেছে। শীতকালীন পোশাকের মধ্যে অন্যতম উলের সোয়েটার। তবে অনেকের জন্য এই প্রিয় পোশাক পরতেই শুরু হয় অস্বস্তিকর চুলকানি বা লালচে র্যাশ। শীতের আরাম নিতে গিয়ে অনেকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হন।
চিকিৎসকদের মতে, উলের পোশাক সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকের দফারফা দেখা দিতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।
প্রথমত, উলের অমসৃণ তন্তু বা ‘রাফ ফাইবার’ ত্বকের সঙ্গে ঘষা লেগে এক ধরনের যান্ত্রিক অস্বস্তি বা ‘মেকানিক্যাল ইরিটেশন’ তৈরি করে। যাদের ত্বক স্পর্শকাতর বা যাদের একজিমা বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট হয়।
দ্বিতীয়ত, ‘অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’। অনেকেরই উল, উলের ডাই (রং) বা কাপড় প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। এছাড়া ভারী সোয়েটার শরীরের তাপ ও ঘাম আটকে রাখে। এই উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠে। এর ফলে হিট র্যাশ বা ত্বকের ফোস্কার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণ অস্বস্তি এবং অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইরিটেশন হলে সোয়েটার পরার সঙ্গে সঙ্গেই চুলকানি বা সুড়সুড়ি শুরু হয় এবং সোয়েটার খুলে ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু অ্যালার্জি বা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হলে সমস্যা আরও গভীর হয়। এক্ষেত্রে তীব্র চুলকানি, লাল চাকা চাকা দাগ, ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোস্কা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সোয়েটার খোলার পর সহজে সারে না এবং বারবার পরলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
শীতের আরাম উপভোগ করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা সোয়েটারের নিচে অবশ্যই একটি সুতির পাতলা পোশাক পরে নিন। সরাসরি পশমের ছোঁয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া মেরিনো উল, বাঁশ বা ফ্লিসের মতো নরম তন্তুর পোশাক বেছে নিতে পারেন।
নতুন সোয়েটার ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা ধুয়ে নেবেন, যাতে অতিরিক্ত রাসায়নিক বা রং ধুয়ে যায়। সবচেয়ে জরুরি হলো ত্বককে আর্দ্র রাখা। পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের রক্ষাকবচ শক্তিশালী হয়। অস্বস্তি শুরু হলেই দেরি না করে সোয়েটারটি খুলে ফেলা উচিত।
সূত্র: চিকিৎসক পরামর্শ
সিএ/এএ


