বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ওষুধের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। অথচ আয়ুর্বেদে বহু ঘরোয়া উপাদানের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়মিত সেবন করলে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে মেথি বীজ অন্যতম একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের একাধিক সমস্যায় উপকার করতে পারে। মেথি শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়, এটি একটি শক্তিশালী আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবেও পরিচিত। এতে থাকা ফাইবার, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে। সকালে খালি পেটে মেথি বীজ খেলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং দিনের শুরুতেই শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মেথি বীজ বিশেষভাবে উপকারী। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ গ্রাম মেথি বীজ সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি ও অন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
বাত বা আর্থরাইটিসের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও মেথি বীজ উপকারী। ভেজানো মেথি ধীরে ধীরে কাজ করে এবং শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি করে না। আয়ুর্বেদে এমন রোগীদের জন্য মেথি লাড্ডু খাওয়ার পরামর্শও রয়েছে, যা ব্যথা ও শক্তভাব কমাতে সাহায্য করে।
মেথি বীজ নারীদের বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যায়ও কার্যকর। মেথি ও জোয়ান দিয়ে তৈরি ক্বাথ পেটের সংক্রমণ ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক। প্রসবের পর শরীর দ্রুত সুস্থ করতে এবং ডিম্বাশয় বা জরায়ু সংক্রান্ত অস্বস্তিতে মেথি পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া সর্দি, কাশি বা ফ্লুর ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত মেথি বীজও উপকারে আসে।
হজমের সমস্যা থাকলে দুধের সঙ্গে মেথি বীজের গুঁড়া খাওয়া উপকারী। হালকা ভেজে গুঁড়া করা মেথি দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্যাস, অম্বল ও বদহজমের সমস্যা কমে। বিশেষজ্ঞরা কফির পরিবর্তে দুধের সঙ্গে মেথি গুঁড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন। মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা মেথি বীজ বা তার পানি খালি পেটে গ্রহণ করলে কফ ও বাতজনিত মাথা ব্যথা কমতে পারে।
সতর্কতা হিসেবে বলা যায়, যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা বিশেষ শারীরিক অবস্থায় এই ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সিএ/এএ


