শুধু বইভিত্তিক পাঠ নয়—শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজন করেছে দিনব্যাপী শিল্প পরিদর্শন কর্মসূচি। তাত্ত্বিক শিক্ষা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হয়, শিল্পকারখানার ভেতরের কাঠামো কেমন, শ্রমিকদের কাজ কীভাবে ভাগ হয়—এসব জানতে সম্প্রতি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তিন ব্যাচের মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন এ কর্মসূচিতে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসিওলজি কোর্সের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত দেশের স্বনামধন্য পোশাক ও বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, পিএসসি, এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। উৎপাদন প্রক্রিয়ার সার্বিক ধারণা দেন সহকারী ব্যবস্থাপক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) কাজী জিয়াউল হক রাব্বি।
শিক্ষার্থীদের দুই দলে ভাগ করে কারখানার প্রতিটি ধাপ ঘুরে দেখানো হয়—সুতা সংরক্ষণ, নিটিং, রং করা, ধোয়া, শুকানো, কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং থেকে শুরু করে ইস্তিরি ও প্যাকেজিং পর্যন্ত। পাশাপাশি শ্রমিকদের দায়িত্ব বণ্টন, কর্মঘণ্টা, উৎপাদন লাইনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও তুলে ধরা হয়।
শিল্পায়ন, শ্রম বিভাজন এবং শিল্পকারখানার সামাজিক কাঠামো কীভাবে সমাজকে প্রভাবিত করে—তা শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বুঝতে পারেন। এতে তাঁদের সমাজতাত্ত্বিক উপলব্ধি গভীরতর হয় এবং গবেষণার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক জমশেদুর রহমানসহ বিভাগীয় শিক্ষকরা। তিনি বলেন, এই ধরনের শিল্প পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ তাদের গবেষণা দক্ষতা বাড়ায় এবং দেশের পোশাকশিল্প উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
শিল্প পরিদর্শনের পর শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক পানাম নগর ঘুরে দেখেন। সেখানে তাঁরা শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবনের সুযোগ পান।
ডিআইইউ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই দিনব্যাপী আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, পর্যবেক্ষণ দক্ষতা ও প্রয়োগমূলক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে—যা তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত জীবনে মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সিএ/এসএ


