আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই প্রাণ ফিরেছে। বিভিন্ন দল তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গণতন্ত্র, শিক্ষা খাত এবং উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন।
উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে, এমন সরকার চাই
সামিহা সিরাজী লাজ, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণ ফিরে এসেছে। বিভিন্ন দল তাদের ইশতেহার ঘোষণা করছে এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ভোটারদের আস্থা বাড়ায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল আচরণ ও গণতান্ত্রিক মনোভাব নির্বাচনের গুরুত্ব বাড়ায়। সক্রিয় ভোটার হিসেবে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা শুধু অধিকার নয়, নাগরিক দায়িত্বও বটে। এটি দেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে এবং স্থিতিশীল, প্রতিনিধিত্বমূলক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, এমন সরকার আসুক
তানজিল কাজী, শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
এই নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করি একটি দায়িত্বশীল সরকার শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও সম্ভাবনা বিবেচনা করবে, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেবে এবং কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি করবে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, নয়তো মেধা পাচার বৃদ্ধি পেতে পারে। তরুণ ভোটার হিসেবে আমার প্রত্যাশা—আমার ভোটে এমন সরকার আসুক, যারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
নির্বাচন হোক সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
সাবরিন সুলতানা উর্বরা, শিক্ষার্থী, আরপি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়
নির্বাচন শুধু ক্ষমতা নির্ধারণ নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতার পরিচয়। আমি চাই, নির্বাচন হোক সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ থেকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যবেক্ষক প্রবেশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। প্রতিযোগিতা হবে নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে, সহিংসতা বা পেশিশক্তির মাধ্যমে নয়। নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমানভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে দৃঢ় করবে।
আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ
মো. তাহমিদ আল মাহাবুব খান এলিন, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। তবে সচেতন ভোটার, দায়িত্বশীল প্রশাসন এবং অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল মনোভাব এই ব্যবধান কমাতে সহায়ক হতে পারে। ভোটের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদি আস্থা গড়ে তুলবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ ভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় এবং ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সিএ/এসএ


