দেশের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মিলমালিকেরা। তাদের অভিযোগ, মজুতদারির কারণে বাজারে কাঁচা পাটের দাম প্রতি মণ ৫ হাজার টাকার বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।
গত সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে বিজেএমএ ও বিজেএসএর যৌথভাবে পাঠানো এক চিঠিতে এই হুঁশিয়ারির কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ দিক থেকেই কাঁচা পাটের ঘাটতির কারণে মিলগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কাঁচা পাট রপ্তানির কারণে বাজারে হঠাৎ করে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে দেশীয় মিলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁচা পাট কিনতে পারছে না। পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহেও ব্যর্থ হচ্ছে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরও বলা হয়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে কাঁচা পাট মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এর ফলে পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে বেকারত্ব বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এবং দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকেও বঞ্চিত হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মজুতদারদের তালিকা পাট অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর ২১ জানুয়ারি পাট অধিদপ্তরে বিজেএমএ, বিজেএসএ ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের উপস্থিতিতে এক যৌথ সভা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ভারতে রপ্তানির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা কাঁচা পাট মিলগুলোতে সরবরাহ করা হলে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে এবং নগদ টাকায় মজুত থেকে পাট বিক্রি করা হবে।
বিজেএমএর চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, “মজুতদারদের বিরুদ্ধে নামমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তারা সরকারি নির্দেশনা মানছে না এবং বাজারে পাট ছাড়ছে না।” তাঁর মতে, একদিকে মিলগুলো বন্ধের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বেশি দামে কাঁচা পাট কিনে ক্ষতিতে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে।
বিজেএসএর চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিজেএর কাঁচা পাট ব্যবসায়ীদের গুদামে থাকা পাট যৌক্তিক মূল্যে মিলগুলোতে সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সিএ/এসএ


