আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা সুপারিশ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনকে একত্রিত করে গঠিত এই অ্যালায়েন্স আজ বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরের ৭১ হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শ্রমিক ইশতেহার তুলে ধরেন অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স আগামী নির্বাচনে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুপারিশ আকারে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন, বিভিন্ন জোট, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে অংশ নিচ্ছেন।
ইশতেহারে সব ধরনের শ্রমিকের জন্য আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা, জীবনধারণের উপযোগী মজুরি (লিভিং ওয়েজ) ভিত্তিতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং মজুরিবৈষম্য দূর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে অ্যালায়েন্স জোর দিয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, গ্রাম ও শহরের শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকিমূল্যে রেশন এবং পর্যায়ক্রমে সবার জন্য আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। রেশনিং ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বড় শহর, কারখানা ও শিল্পঘন এলাকায় টিসিবি এবং ওএমএসের মাধ্যমে শ্রমিকদের পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক স্বাস্থ্য কার্ড চালু করে স্বাস্থ্য সেবা, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পর চিকিৎসা সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি ভাতা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইশতেহারে শিশু-কিশোর শ্রম বন্ধ, শ্রমসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা, ইপিজেড শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং জাতীয় শ্রম কমিশন গঠনের মাধ্যমে শ্রমক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অ্যালায়ন্সের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই এই ইশতেহার। শ্রমিকদের প্রধান সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হলে তাদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও অধিকার মোটামুটি পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমরা এই ইশতেহার দিচ্ছি। আশা করি, শ্রমিকদের প্রধান সমস্যা নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি এ আর চৌধুরী রিপন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সেকেন্দার আলী মিনা, নারীপক্ষের সদস্য রওশন আরা প্রমুখ।
সিএ/এসএ


