দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসকে সাইড দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোস্তফা কামাল (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
নিহত মোস্তফা কামাল উপজেলার দশমাইল গড়নুরপুর এলাকার সাইরুদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত দশমাইল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা থেকে রংপুরের তারাগঞ্জে যাচ্ছিল একটি বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। তেরমাইল এলাকায় একই দিকে যাওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে হর্ন দিয়ে দ্রুত পাশ কাটিয়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে অটোরিকশার চালক সফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে দশমাইল এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানিয়ে মাইক্রোবাসটি আটকে রাখার কথা বলেন।
এরপর মোস্তফা কামালসহ কয়েকজন দশমাইল শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে বরযাত্রীর মাইক্রোবাসসহ গাড়িবহরটি থামিয়ে দেন। এ সময় মাইক্রোবাস থেকে বরযাত্রীরা নেমে আসেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মধ্যে মোস্তফা কামাল মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা জানান, মোস্তফা কামালকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং রাত ১০টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান অবরোধকারীরা।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গাড়ি সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসছি। স্থানীয় লোকজন রাত ১০টার দিকে সড়ক থেকে সরে গেছেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


