চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের এক সপ্তাহ পর স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এলাকায় এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চিত্র দেখা যাচ্ছে। সড়কের পাশে দোকানপাটে ভিড়, মাঠে শিশুদের খেলাধুলা এবং মানুষের অবাধ চলাচল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দুটি স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে এখন তারা স্বস্তিতে রয়েছেন।
জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা মো. রাশেদ বলেন, ‘আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। আমরা চাই শান্তি। শুধু সপ্তাহ নয়, বছরের পর বছর শান্তি থাকুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে সন্ত্রাসীদের মধ্যে দখল-বেদখল নিয়ে মারামারি হতো। আমরা সাধারণ বাসিন্দারা আতঙ্কে থাকতাম। এখন অভিযানের পর পুলিশ পাহারা রয়েছে। সন্ত্রাসীরাও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশ দিয়ে পাহাড়ি এলাকায় বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর মূলত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল এলাকাটি।
গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে বড় পরিসরে যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এর আগে একাধিকবার অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হন।
অভিযানের পর এলাকায় র্যাব-পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে পৃথক দুটি তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
তবে অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের একটি অংশ রোকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিন বাহিনীর দখলে ছিল।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর এখন পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সেখানে সন্ত্রাসীরা ফিরে আসতে পারবে না। তাদের আগেই গ্রেপ্তার করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় নেই। যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করা বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যাতে আর এলাকায় ফিরতে না পারে, সেটাই আমাদের চাওয়া। এই এক সপ্তাহ আমরা শান্তিতে আছি। তবে যদি উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে যেন আমাদের উপযুক্ত জায়গায় পুনর্বাসন করা হয়।’
র্যাব-৭–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। তাদের ধরতে র্যাব কাজ করছে। যেভাবেই হোক জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে। তারা আর ফিরতে পারবে না।’
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলার প্রবণতাও বন্ধ করতে হবে। তাদের দাবি, এলাকা যেন স্থায়ীভাবে সন্ত্রাসমুক্ত থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত থাকে।
সিএ/এমই


