শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপনের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো এবং সড়কে স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে ছাত্রলীগের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা–কর্মী শরীয়তপুরের অন্তত তিনটি স্থানে জন্মদিন উদ্যাপনের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা মামলা ও হামলার আশঙ্কায় আত্মগোপনে চলে যান। অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। এরপর থেকে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
তবে একই বছরের ১৫ আগস্ট শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং জাজিরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদারের বাড়িতে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছিল। এরপর আর প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি দলটির নেতা–কর্মীদের।
এদিকে আত্মগোপনে থাকা নেতা–কর্মীরা মাঝে মধ্যে রাতের আঁধারে সড়ক অবরোধ, মিছিল ও পোস্টার লাগানোর মতো কর্মসূচি পালন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা যাঁরা কোনো মামলার আসামি নন, এমন নেতাদের নেতৃত্বে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি করার পরিকল্পনা আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করতে চাই। নির্বাচনের পর জেলা কার্যালয় ও বিভিন্ন ইউনিয়ন কার্যালয় খোলা হয়েছে। ওই সব কার্যালয়ে এখনো কেউ নিয়মিত বসছে না। তবে শিগগিরই আমরা প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালাব।’
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন কর্মসূচি করেছে—এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কিন্তু একটি ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে, তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
সিএ/এমই


