সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেতে সিলেটে বিএনপির অন্তত নয়জন নেত্রী তৎপরতা শুরু করেছেন। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান (পপি) ও জেবুন নাহার সেলিম। আদিবা হোসেন ও সাবিনা খান সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। অন্যদিকে জেবুন নাহার সেলিম সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তাঁরা কেউ চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইনজীবী হাদিয়া চৌধুরী (মুন্নি), প্রয়াত খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহসভাপতি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর রোকসানা বেগম শাহনাজ এবং মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা কুমকুমের নামও শোনা যাচ্ছে।
সৈয়দা আদিবা হোসেন সিলেট-৬ আসনের দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লিচু) মেয়ে। তিনি টাম্পাকো গ্রুপের পরিচালক এবং ঢাকা স্টোরিটেলার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারসহ পাঁচটি স্কুল ও একটি কলেজের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও চ্যারিটি কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। আদিবা হোসেন বলেন, তাঁর বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছেন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
সাবিনা খান যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে এবং যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হেমলেটসের সাবেক কাউন্সিলর। জেবুন নাহার সেলিম সিলেট-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দিলদার হোসেনের (সেলিম) স্ত্রী। তিনি জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি।
সামিয়া বেগম চৌধুরী বলেন, ‘আমি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদল সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। আন্দোলন, সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছি। আশা করছি, দল আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে।’
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানান, দলের সুসময়ে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ কেউ যেন মনোনয়ন না পান, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। তাঁদের মতে, দুঃসময়ে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের অবদান মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের কঠিন সময়ে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের বিষয়টি দল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি মনে করেন।
সিএ/এমই


