জয়পুরহাট পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নতুনহাট এ বছর ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এটি পৌরসভার ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ দর। ফলে নতুনহাট এখন শুধু বৃহৎ গবাদিপশুর বাজার নয়, পৌরসভার রাজস্ব আয়ের বড় উৎস হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
নতুনহাটে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে—শনিবার গরুর এবং বুধবার ছাগলের। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি শনিবারে ছয় থেকে সাত হাজার গরু কেনাবেচা হয়। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসায় হাট এলাকা দিনভর সরগরম থাকে।
পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে হাটের ইজারা কার্যক্রম একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং কম প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি সীমিত পরিসরে রাখা হতো, ফলে বাইরের দরদাতারা অংশ নিতে পারতেন না।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র মোস্তাফিজুর রহমানের সময়ে হাটটি ২ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ১১১ টাকায় ইজারা দেওয়া হয় জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালীচরণ আগরওয়ালার নামে। পরে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইজারা মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৮ টাকা, যা পান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শামস-মতিন। সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি একই ঠিকাদার ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা পান।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাটটির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্ব, ব্যাপক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধিই উচ্চ দর পাওয়ার প্রধান কারণ। নতুনহাটকে ঘিরে পরিবহন, খাদ্য, খামার সরঞ্জাম ও ক্ষুদ্র ব্যবসার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারেরা এখানে আসেন। দেশি-বিদেশি জাতের গরু, খাসি ও ছাগলের সমাবেশ হাটটিকে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আশির দশকে নতুনহাটের যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম বড় পশুর হাটে পরিণত হয়েছে। প্রতি শনিবারে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পর্যন্ত গরু ও বাছুর হাটে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান। কোরবানির ঈদের সময় এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভোর থেকে কেনাবেচা শুরু হয় এবং অনেক পাইকার আগের দিনই এসে অবস্থান নেন। প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। বুধবারের ছাগলের হাটেও ব্যাপক বেচাকেনা হয়ে থাকে।
নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা নুর আলম আনছারী বলেন, শনিবার হাটবারের দিন পা রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। অনেক গরুর আমদানি হয়। সড়কেও ভিড় থাকে। নামকরণের কারণে নতুনহাট নতুনই থাকবে কখনো পুরোনো হবে না।
ফেনী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী রোস্তম আলী বলেন, ‘আমরা ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী ১৫ বছর ধরে জয়পুরহাটের নতুনহাট থেকে গরু ক্রয় করছি। একাই ২৭ লাখ টাকার গরু কিনেছি।’
জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রেজা বলেন, নতুনহাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি জয়পুরহাটের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। গত দুই বছরে এই হাট থেকে পৌরসভার রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তিনি আরও জানান, সিন্ডিকেটের কারণে অতীতে ন্যায্য দরে ইজারা হয়নি।
জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উত্তম কুমার রায় বলেন, পৌরসভার নতুনহাট ইজারায় এবার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। হাটটি ১২ কোটি ১২ লাখ ১২২ টাকায় ইজারা হয়েছে।
সিএ/এমই


