কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়াকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। তাদের বাসা থেকে ডেকে এনে মাদক মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, সোমবার ভোর ছয়টার দিকে শিংঝাড় এলাকায় পাঁচ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ মো. হায়দার আলী (৩১), মো. সজিব (২৫) ও মো. শেখ ফরিদ (৪০) আটক হন। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭,৫০০ টাকা। পরে বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার শুরু অন্যভাবে। ভোরে ভারত থেকে দুটি গরু চুরি করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন হায়দার আলী। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও গ্রাম পুলিশ আবদুল মালেক গরু জব্দ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে হায়দার আলী সজিব ও ফরিদকে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর তাদের বাসা থেকে ডেকে এনে স্থানীয় বাজারে আনা হয় এবং পরে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে তখন কোনো মাদক ছিল না। বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে জব্দকৃত গরু দুটি ভারতে ফেরত দেওয়া হয়। গরু চুরির মামলার পরিবর্তে মাদক মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
গ্রাম পুলিশ আবদুল মালেক বলেন, “সজিব ও ফরিদকে বাসা থেকে ডেকে এনে বিজিবির কাছে দিয়েছি। তাদের কাছে কোনো মাদক ছিল না।”
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মাজেদা খাতুনের স্বামী হামিদুল ইসলাম বলেন, “বিজিবির কাছে হস্তান্তরের সময় কোনো গাঁজা বা মাদক জব্দ হয়নি।”
অন্যদিকে, মামলার বাদী শিংঝাড় বিওপির হাবিলদার মো. নাছির উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোয়ালঘরের ভেতর থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় গরু বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়।
১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, “বিজিবির সদস্যরা মাদকসহ তিনজনকে আটক করেছেন। তাই মামলা করা হয়েছে। গরু চুরির ঘটনায় মাদক মামলা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিম উদ্দিন জানান, বিজিবির সোপর্দ করা মাদকসহ তিনজনকে আটক দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
সিএ/এমই


