নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি না হলেও এই দুই শিশু আলাদা একটি ঘটনায় শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) মো. শাহিদুল আলম। তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া দুই যমজ শিশু প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়নি। পরে তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাম শনাক্ত হয় এবং বর্তমানে তারা ওই হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে হাম রোগী দেখা যাচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত সরাসরি হাম আক্রান্ত এমন কোনো রোগী না পাওয়া গেলেও জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত রোগী বা শিশু পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় আক্রান্তের ঝুঁকিও তাদের বেশি। এক্ষেত্রে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইম হাসান বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত ও অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এটি প্রতিরোধের প্রধান উপায় এমএমআর টিকা, যা হাম, মাম্পস ও রুবেলা—এই তিনটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। প্রয়োজনে শুধুমাত্র হাম প্রতিরোধের জন্যও আলাদা ভ্যাকসিন দেওয়া যায়।
তিনি জানান, ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সাধারণত শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হাম টিকা দেওয়া হয়। শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি বা হামজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ডোজ টিকা সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।
সিএ/এএ


