নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন পিঁপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলী, তাঁর পরিবারের তিন সদস্য এবং একই ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি লিটন ও রিপন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুরুতর আহত রিপনের হাতের দুটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া আরব আলীও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থার কারণে রিপন ও আরব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য আহতরা নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার তাদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের কারণে শুক্রবারের ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
জেলা যুবদলের সভাপতি এ এইচ তালুকদার ডালিম বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং দুই পরিবারের পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


