কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে সভায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে ধানের শীষ প্রতীকে পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যকে হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাজিতপুর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই ঘটনা ঘটে। সভায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং এর জেরে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, এমন পরিস্থিতি সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ঘটনার কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগের কক্ষে দলবল নিয়ে অবস্থান করছেন এহসানুল হুদা। তার সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসামিসহ ৩০-৩৫ জনকে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এহসানুল হুদাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ জানতে চান এবং শুধুমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে দিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পর থেকেই এহসানুল হুদার সমর্থকরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। অনেক সময় অন্যদের মাধ্যমেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ইউএনওর সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও সমন্বয় কমিটির বৈঠক হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পদাধিকারবলে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বৈঠক চলাকালে দলবল নিয়ে উপজেলা পরিষদে হাজির হন এহসানুল হুদা। বৈঠক শেষে আমাকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান ও হুমকি দেওয়া হয়।’
তিনি দাবি করেন, ইউএনও’র কক্ষে ৩০-৩৫ জন প্রবেশ করলেও বাইরে প্রায় দুই শতাধিক লোক অবস্থান নেয়। তবে কর্মী-সমর্থকদের শান্ত রাখায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এমপি ইকবাল আরও বলেন, হঠাৎ বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কারণে জনগণ তাকে গ্রহণ করেনি। বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন যেন তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি। অথচ তার পরিবার আগে কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমর্থন পাওয়ার কারণে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। পরাজয়ের পর এহসানুল হুদা ওই সব নেতাকর্মীদের দল থেকে বহিষ্কার করেছেন, যা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করছে।
এ বিষয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিএ/এএ


