বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় দুই দলের জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের সময় সৌদি আরবের পতাকা মাটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় পতাকা মাঠের সমান্তরালে নামিয়ে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। তবে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র বাণী ‘কালিমা’ খচিত থাকায় দেশটির ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে পতাকাটি মাটি স্পর্শ না করে উঁচিয়ে ধরে রাখা হয়।
সৌদি আরবের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জাতীয় পতাকায় থাকা ধর্মীয় বাণীকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয় এবং এ ধরনের পতাকা মাটিতে রাখা বা স্পর্শ করানো থেকে বিরত থাকা হয়। বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিকতা বজায় রেখেই এ বিষয়ে সমন্বয় করে ফিফা।
তবে শুধু একটি দেশের পতাকাকে আলাদা মর্যাদা দিলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে কারণে সৌদি আরবের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের জাতীয় পতাকাও একইভাবে পুরো সময় উঁচিয়ে রাখা হয়। এতে অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে জাতীয় পতাকায় ধর্মীয় বাণী ব্যবহারের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বিরল। সৌদি আরবের পতাকায় পবিত্র ‘কালিমা’ এবং ইরাকের পতাকায় ‘আল্লাহু আকবার’ বাক্যাংশ ব্যবহৃত হয়েছে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া মঞ্চে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে সম্মান জানানোর একটি বার্তা উঠে এসেছে বলে ফুটবলপ্রেমীদের একটি অংশ মনে করছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনেও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেই আলোচনাতেও বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
সিএ/এমই


