নবী-রাসুলদের জীবন নিয়ে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব বর্ণনার সবগুলো যে নির্ভরযোগ্য সূত্রভিত্তিক, তা নয়। হজরত আইয়ুব (আ.)–এর শরীরে পোকা পড়া এবং দীর্ঘ রোগভোগের সময় দেহ পচে যাওয়ার কাহিনিও তেমন একটি বহুল প্রচলিত বর্ণনা, যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি গবেষকরা।
ধর্মীয় সূত্রগুলোতে হজরত আইয়ুব (আ.)–কে ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হলেও আল্লাহর প্রতি আস্থা হারাননি। তবে তাঁর শরীরে পোকা পড়া বা দেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি নির্ভরযোগ্য ইসলামি সূত্রে পাওয়া যায় না বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা।
পবিত্র কোরআনে হজরত আইয়ুব (আ.)–এর কষ্ট ও ধৈর্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আইয়ুবের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বলেছিলেন, “আমি দুঃখ–কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩)
গবেষকদের মতে, শরীরে পোকা পড়ার কাহিনির উৎস মূলত ইসরায়েলি রেওয়ায়েত বা পূর্ববর্তী কিছু লোককাহিনি। পরবর্তী সময়ে এসব বর্ণনা মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকের কাছে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে পরিচিতি পায়।
ইসলামি শিক্ষায় নবীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তাই তাঁদের সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হজরত আইয়ুব (আ.)–এর জীবনের মূল শিক্ষা তাঁর রোগের ধরনে নয়; বরং কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও তাঁর অসীম ধৈর্য, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসে নিহিত।
তাঁর জীবন থেকে মুসলমানরা বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর রহমতের প্রতি আস্থা রাখা এবং ইবাদতে অবিচল থাকার শিক্ষা পেতে পারেন।


