দিনাজপুরে বৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও মৌসুমের শুরুতে জ্বালানি সংকটের কারণে এ বছর লিচুর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে রসালো এই ফলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিনাজপুর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার লিচু বাগান পরিদর্শন ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনাবৃষ্টি, পরে তাপপ্রবাহ এবং সর্বশেষ ঝড়-বৃষ্টিতে লিচু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গুটি ঝরে পড়া এবং কিছু এলাকায় লিচু ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দিনাজপুর সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, কাহরোল ও বোচাগঞ্জ উপজেলার লিচু চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা থাকলেও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় এবার উৎপাদন কমে যেতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সেচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।
বিরল উপজেলার চাষি রতন রায় বলেন, বাগানে লিচু পচে ও ঝরে যাচ্ছে, ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
একই উপজেলার ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টিতে লিচু ফেটে নষ্ট হচ্ছে, ফলে বাগান রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের লিচু চাষি জুয়েল ইসলাম বলেন, তার তিন একর বাগানে এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাবে, ফলে বাজারে লিচুর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হলেও তা সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লিচুর মান রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লিচুর সুনাম ধরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এবারও ভালো উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সিএ/এমই


