ইরানের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে কয়েক শতাব্দী ধরে পালন করা হচ্ছে একটি বিশেষ ধর্মীয় ঐতিহ্য। মাজার পরিষ্কারের এই আচারে ব্যবহার করা হয় ময়ূরের পালক দিয়ে তৈরি বিশেষ ঝাড়ু, যা ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় ৫০০ বছর আগে সাফাভী আমলে এই রীতির সূচনা হয়। সে সময় ভারত থেকে ধর্মীয় উপহার হিসেবে ময়ূরের পালক ইরানে পাঠানো হতো। পরে তা মাজার পরিষ্কারের বিশেষ ধর্মীয় আচারের অংশ হয়ে ওঠে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঐতিহ্য কেবল একটি পরিচ্ছন্নতার প্রক্রিয়া নয়, বরং ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
মাশহাদের এই পবিত্র স্থানে ধুলো পরিষ্কারের অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয়। গবেষক জাওয়াদ নাভায়িয়ান রুদসারি জানিয়েছেন, ইমাম রেজার প্রতি শ্রদ্ধা শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিভিন্ন সময় অন্য ধর্মের অনুসারীরাও এই মাজারের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক নথিপত্রে জানা যায়, ১১১১ হিজরির একটি দলিলে ময়ূরের পালক দিয়ে তৈরি ঝাড়ুর উল্লেখ রয়েছে। সাফাভী যুগে এসব ঝাড়ু বিশেষভাবে মাজার পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ধর্মীয় শিল্পকলার অংশে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে কাজার আমলে এই ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তখন ময়ূরের পালকের ঝাড়ুগুলো মুক্তা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে অলঙ্কৃত করা হতো। বর্তমানে আস্তান কুদস রাজভী জাদুঘরে সে সময়ের একটি ঐতিহাসিক ঝাড়ু সংরক্ষিত রয়েছে।
বিংশ শতাব্দীতেও ভারত থেকে মাশহাদে ময়ূরের পালকের ঝাড়ু পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৩৩ সালের একটি নথিতে ভারতের হায়দরাবাদ থেকে পাঠানো বিশেষ উপহারের উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে মাজারের খাদেমরা নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে এই পালক ব্যবহার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। দর্শনার্থীদের কাছে এটি গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছে।
গবেষকদের মতে, ময়ূরের পালক ব্যবহারের এই ঐতিহ্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই অঞ্চলের ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে রয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
সিএ/এমআর


