চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন করে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। শুধু ভ্রমণ নয়, গবেষণা ও বসবাসের লক্ষ্য সামনে রেখে চাঁদে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই লক্ষ্যেই চাঁদে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আগামী দিনে চাঁদে বিভিন্ন মিশনে নভোচারী, রোবট, যান ও স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করবে। এসবের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে উচ্চগতির নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক প্রয়োজন, যা পৃথিবীতে ব্যবহৃত ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতোই কার্যকর হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ফোর-জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এখন ফাইভ-জি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে সংশ্লিষ্টরা। এই প্রযুক্তি দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান, কম বিলম্ব এবং একসঙ্গে বহু ডিভাইস সংযুক্ত রাখার সুবিধা দেয়, যা মহাকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চাঁদের পরিবেশ সহনশীল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদে বসবাস বা ভ্রমণকারী মানুষের জন্য এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
চাঁদে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভোচারীদের পোশাক, যানবাহন এবং বিভিন্ন যন্ত্রে উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে হাই-রেজোলিউশন ভিডিও ও সেন্সর ডেটা দ্রুত আদান-প্রদানের প্রয়োজন হবে, যা ফাইভ-জি প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব নয়।
চাঁদে প্রথম সেলুলার নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে যে প্রতিষ্ঠান আগে এই প্রযুক্তি সফলভাবে চালু করতে পারবে, তারা বাণিজ্যিক সুবিধাও পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
সিএ/এমআর


