জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে দেশে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তেল কারসাজি ও কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। এতে অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এ সংক্রান্ত ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, পার্বতীপুর ডিপো থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই তেল বিভিন্ন মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হয় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার থানা গেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বালিয়াডাঙ্গীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর ছেলে মোহাম্মদ সুমন কিছু অনিয়মের বিষয় স্বীকার করেন বলে জানা যায়। সেখানে তিনি পেট্রোল ও অকটেন তিন দফা ক্রয়-বিক্রয়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে ডিজেল সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য পুরোপুরি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের অনুরোধে তিনি তেল সংগ্রহ করেছিলেন। তবে কালোবাজার থেকে তেল কেনার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলবাহী একটি গাড়ি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সরাসরি ব্যবসায়ীর দোকানে পৌঁছায়, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
এছাড়া ‘কাদের এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে অস্তিত্বহীন হলেও কাগজপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায়, এফিডেভিটের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে।
প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের তথ্য উঠে এলেও এর উৎস সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে রাজশাহীর ‘টুম্পা ট্রেডার্স’-এর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ডিপো থেকে বরাদ্দ তেল নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছানোর অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সিএ/এমই


