পাবনার ঐতিহ্যবাহী ৬৫ বছর বয়সী পাবনা প্রেসক্লাবের জায়গা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি জানিয়েছেন, প্রেসক্লাবের জমি সংক্রান্ত আবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (২ মে) পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রেসক্লাবের ৬৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, পাবনা প্রেসক্লাবের আবেদন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন। আমরা একটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীও এ বিষয়ে কিছু বরাদ্দ দেবেন, যাতে ঐতিহ্যবাহী এই প্রেসক্লাব আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পাবনা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো উপমহাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলার অনেক গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে, যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করি। সাংবাদিকরাও এ জেলার গৌরবের অংশ। পাবনা আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে চলছে। আগামী দিনে পানিসম্পদ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা ও যমুনা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং প্রয়াত সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অনেকে।
এ সময় প্রেসক্লাব সদস্যরা ক্লাবের জায়গাটি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা, যা দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি অপসাংবাদিকতা রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা, যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সিএ/এমই


