মহাকাশের শূন্য অভিকর্ষ পরিবেশে শুক্রাণুর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং তারা ডিম্বাণুর দিকে সঠিকভাবে অগ্রসর হতে পারে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, মাধ্যাকর্ষণের অভাবে শুক্রাণুগুলো দিক নির্ণয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কৃত্রিমভাবে তৈরি ওজনহীন পরিবেশে শুক্রাণুগুলো যেন কোনো নিয়ন্ত্রণহীন নভোচারীর মতো ঘুরপাক খাচ্ছে।
গবেষক ড. নিকোল ম্যাকফারসন বলেন, “মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় এগুলো উল্টেপাল্টে যায়… আসলে কোনটা ওপর আর কোনটা নিচ তা এরা বুঝতে পারে না।”
এই গবেষণায় এমন একটি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম। এতে শুক্রাণুগুলোকে একটি কৃত্রিম গোলকধাঁধায় রাখা হয়, যা নারী প্রজননতন্ত্রের অনুরূপভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, মাধ্যাকর্ষণের অভাবে শুক্রাণুর গোলকধাঁধা পার হওয়ার সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। একই ধরনের প্রভাব ইঁদুর ও শুকরের ভ্রূণ গঠনের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষকরা বলছেন, এই প্রথমবারের মতো প্রমাণ মিলেছে যে শুক্রাণুর সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে মাধ্যাকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কারণে প্রজনন প্রক্রিয়ায় মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব বোঝা জরুরি হয়ে উঠেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রোজেস্টেরন হরমোনের উপস্থিতিতে শুক্রাণু কিছুটা দিকনির্দেশনা ফিরে পায়। এই হরমোন স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণু থেকে নিঃসৃত হয় এবং শুক্রাণুকে পথ নির্দেশনায় সহায়তা করে।
গবেষকদের মতে, মহাকাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণও শুক্রাণুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে মহাকাশে প্রজনন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সিএ/এমআর


